ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমিরাত

প্রথম উপসাগরীয় দেশ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আরব কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

এক মাসের বেশি সময় ধরা চলা যুদ্ধে আমিরাত প্রায় আড়াই হাজার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এটি ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির তেল উৎপাদনও অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। পাশাপাশি দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাত তেল বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত করতে চায়। সে জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

আরব সূত্রগুলো জার্নালকে জানিয়েছে, ইউরোপ ও এশীয় দেশগুলো নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠনের ব্যাপারে আমিরাতের কূটনীতিকরা ব্যক্তিগতভাবে ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছেন। জোটের লক্ষ্য এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে শক্তি প্রয়োগ করতে আমিরাত বর্তমানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাসের জন্য লবিং করছে।

বর্তমানে প্রণালির মাইন অপসারণসহ সামরিক অবদান রাখার মতো ক্ষেত্রগুলো খতিয়ে দেখছে আবুধাবি। আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় এই দেশটি চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন প্রণালির দ্বীপগুলো দখলে নেয়। এর মধ্যে আছে- আবু মুসা। অর্ধশতাব্দী ধরে দ্বীপটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আমিরাত এটিকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত থেকে সরে যেতে পারে। এরপর হরমুজ প্রণালিতে যা ঘটবে সেটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল বাণিজ্য হয়। তাই এটি সচল করার দায়িত্ব প্রণালি ব্যবহারকারীদের।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ