ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে ইরান দাবি না মানলে তাদের পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি সভ্যতার পুরোটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। এটি আর কখনো ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু কে জানে- সম্ভবত তাই হতে যাচ্ছে।’
পোস্টে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে বোমা বর্ষণ করে দেশটিকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দিতে পারে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সীমা অতিক্রম করে তবে প্রতিশোধের আগুন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়াবে। ওয়াশিংটন ও মিত্রদের তেল, গ্যাস থেকে বঞ্চিত করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন আঞ্চলিক অংশীদারদের জানা উচিত তেহরান এখনো অনেক সংযম প্রদর্শন করেছে। লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে চলেছে। কিন্তু এখন থেকে সেসব সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
‘মৃত্যু কোনো রসিকতা নয়’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির মুখে আতঙ্কে আছেন সাধারণ ইরানিরা। মেতানাত নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেছেন, তাঁর এক সহপাঠী কিছুদিন আগে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে তিনিও ভীষণ আতঙ্কিত। পরিস্থিতি আতঙ্কিত হওয়ার মতোই।
ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে ২৭ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী বলেন, কিছু মানুষ মনে করে এগুলো নিছক রসিকতা, কিন্তু মৃত্যু কোনো রসিকতা নয়।
রেল সেতু, খার্গ দ্বীপে হামলা
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোম ও মধ্য ইরানের দুটি রেল সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। তেহরান ও উত্তরাঞ্চলের তাবরিজকে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে।
কারাজে একটি রেললাইনে হামলার খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা মিজান। আর মেহর নিউজ জানিয়েছে, তেল শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপেও হামলা হয়েছে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক সাংবাদিক দাবি করেছেন, হামলাটি ছিল মূলত ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুর’ ওপর।
মঙ্গলবার দিনের শুরুতে তেহরান জুড়ে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী আলবোর্জ প্রদেশে হওয়া হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় রাজধানীর রাফি-নিয়া সিনাগগ বা ইহুদি উপাসনালয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।





