৪৮৬ গ্যাং সদস্যের সম্মিলিত বিচার শুরু করেছে এল সালভাদর

মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরের ৪৮৬ জন অভিযুক্ত গ্যাং সদস্যের সম্মিলিত বিচার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই বিচারকে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম গণবিচার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই বিচার হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলের গ্যাংবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে এবং জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। এটি দেশটির সহিংস গ্যাং অপরাধ দমনের বৃহৎ অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

 

প্রসিকিউটরদের দাবি, অভিযুক্তরা কুখ্যাত মারা সালভাতরুচা গ্যাং (এমএস-১৩) গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সংঘটিত ৪৭ হাজারের বেশি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে হত্যা, নারীহত্যা, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ।

২০২২ সালে কার্যকর হওয়া এবং বারবার নবায়ন করা জরুরি অবস্থার অধীনে, নিরাপত্তা বাহিনী ৯১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি লোককে আটক করেছে এবং কংগ্রেস গণবিচারের অনুমতি দিয়ে একটি অধ্যাদেশ পাস করেছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করেছে, এই সম্মিলিত বিচারগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করেছে এবং আসামিদের আইনি পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। 

মঙ্গলবার আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশন দীর্ঘস্থায়ী জরুরি অবস্থার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং অপরাধ দমনের কৌশল হিসেবে এর ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এল সালভাদরে চলমান বৃহৎ গণবিচারে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জরুরি ক্ষমতার এই শাসনব্যবস্থায় আইনি প্রতিরক্ষার অধিকার ও যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক আটকাদেশের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।

 

বর্তমান মামলার আসামিদের পাঁচটি কারাগারে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘সেকোট’। ২০২৩ সালে বুকেলে প্রশাসন কর্তৃক খোলা একটি কুখ্যাত সর্বোচ্চ-নিরাপত্তার কারাগার।

অভিযোগপক্ষ জানিয়েছে, তারা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে প্রতিটি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে একজন আসামির সর্বোচ্চ ২৪৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

 

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাংয়ের দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতারা, যারা ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও ফুনেসের আমলে সরকার ও গ্যাংয়ের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতিতে যুক্ত ছিলেন। সরকারের দাবি, জরুরি ক্ষমতার এই কঠোর অভিযানের ফলে গত বছর দেশটিতে হত্যার হার কমে প্রতি এক লাখে ১.৩-এ নেমে এসেছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৭.৮।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ