পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ম্যারাথন শান্তি আলোচনা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ২১ ঘণ্টার আলোচনায় ইতিবাচক ফল না আসায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে।
দুই পক্ষের রেষারেষিতে আবারও যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে ‘শেষ’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানে অস্ত্র সরবরাহ করলে চীনকেও সমস্যায় পড়তে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এমনকি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজকে আটক করারও ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
আলজাজিরা জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক উত্তেজনা আর না বাড়াতে দুদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচনায় অগ্রগতির অভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলাপে তারা যুদ্ধবিরতির অবস্থাসহ সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্য ও আরও কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী নৌযান পাঠাবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম শনিবার জানায়, তারা মাইন অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
রয়টার্স লিখেছে, পাকিস্তান ত্যাগ করার আগে ইসলামাবাদে গতকাল সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, ‘২১ ঘণ্টার আলোচনায় সমঝোতা হয়নি, এটি একটি দুঃসংবাদ। আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। আমরা ফিরে যাচ্ছি। আমাদের রেডলাইনগুলো কী, তা আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।’
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শনিবার শান্তিচুক্তির আলোচনা শুরু হয়। উচ্চ পর্যায়ের এ দীর্ঘ বৈঠকের পর উভয় পক্ষ লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করে। পরে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরান সরকার জানায়, ইসলামাবাদে দুই দেশের কারিগরি দল এখন বিস্তারিত প্রস্তাব ও ‘বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের খসড়া’ বিনিময় করেছে। কিছু বিষয়ে এখনও মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৮ মিনিটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়ে পাকিস্তান ছাড়েন। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে তিনি দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান। পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান– উভয় প্রতিনিধি দলই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে।
পাকিস্তান সফররত ইরানের প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু বিষয় দাবি করেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি। হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি ও আরও বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্তগুলো তেহরান মেনে নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাকিস্তান অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছে। তবে ইরান তাতে রাজি হয়নি।
ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন ভ্যান্স। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে, সে জন্য ‘স্পষ্ট অঙ্গীকার’ প্রয়োজন। তবে সেটি এখনও প্রতীয়মান হয়নি। এমনটা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে।
ভ্যান্স বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমাদের এমন একটি জোরালো প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম– এমন কোনো সরঞ্জাম বা প্রযুক্তিও তারা অর্জনের চেষ্টা করতে পারবে না।’
আলজাজিরা জানায়, ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলনের আগে একটি বিবৃতি দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি। ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপর আলোচনার সাফল্য নির্ভরশীল বলে তিনি জানান।
উপযুক্ত মুহূর্তে ইরানকে ‘শেষ’ করে দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানকে আবারও হুমকি দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ওয়াশিংটন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী উপযুক্ত মুহূর্তে ইরানকে শেষ করে দেবে। পাকিস্তানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে তিনি চীনকেও হুমকি দেন। তিনি বলেন, চীন যদি ইরানকে অস্ত্র দেয়, তাহলে তাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। ফ্লোরিডার উদ্দেশে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
সিএনএন খবর প্রকাশ করে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই হুমকি এলো।
এর আগে আলোচনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে ট্রাম্প তাঁর আরেক পোস্টে একটি নিবন্ধের লিঙ্ক শেয়ার করেন। নিবন্ধের শিরোনাম, ‘ইরান নতি স্বীকার না করলে প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা ট্রাম্প কার্ড– নৌ-অবরোধ’।
নিবন্ধে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ না ছাড়লে ট্রাম্প পাল্টা হরমুজে বড় ধরনের নৌ-অবরোধের মাধ্যমে দেশটিকে কোণঠাসা করে ফেলতে পারেন।
আরেক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক। ইরানের কাছে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তিনি সতর্ক করেন, মার্কিন বাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও প্রবেশের চেষ্টাকারী জাহাজগুলোকে আটক করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। যে জাহাজ ইরানকে টোল দেবে, সেই জাহাজের যাত্রা নিরাপদ থাকবে না।
ইরান ভেনেজুয়েলা নয়, হুমকির জবাবে তেহরান
ইরানের শীর্ষ আলোচক ও সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সদিচ্ছা প্রদর্শনের জন্য ইরানের খুব ভালো উদ্যোগ ছিল, যা অগ্রগতির দিকে নিয়ে গেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে গালিবাফ বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি ইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আপনি লড়াই করলে আমরাও লড়াই করব। আপনি যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরাও পাল্টা যুক্তি দিয়েই তার মোকাবিলা করব।’ সরকারি তথ্য পরিষদের প্রধান ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মনে রাখা উচিত, ইরান ভেনেজুয়েলা নয়।
আলোচনায় যেসব বিষয় প্রাধান্য পায়
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এক্স পোস্টে বলেন, পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় নিবিড় আলোচনা এবং বিরতিহীনভাবে তা চলে রোববার সকাল পর্যন্ত। দুই পক্ষের মধ্যে অসংখ্য বার্তা ও খসড়া বিনিময় হয়।
তিনি লিখেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আলোচনার মূল বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে ও এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান। পাশাপাশি লেবাননসহ সমগ্র অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে জব্দকৃত সম্পদের মুক্তিও দাবি করে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আদায় করতেও চায়। তবে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই ছিল মতপার্থক্যের প্রধান বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রকে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বাঘাই বলেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর। পাশাপাশি তাদের অতিরিক্ত ও বেআইনি দাবি থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপরও এটি নির্ভরশীল।
ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: তেহরান
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ পরবর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
গতকাল সামাজিক মাধ্যম এক্সে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, আলোচনার এই পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধি দলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু এখন এটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারবে কিনা। গালিবাফ বিজয়ের সুর বজায় রেখে বলেন, ‘আমরা সব সময় ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষায় সামরিক পদক্ষেপের সমান্তরালে শক্তিশালী কূটনীতির ওপর জোর দিই।’ গালিবাফ আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হরমুজ প্রণালিতে টোল দিতে হবে রিয়ালে
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ বলেছে, দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবেয়ি হরমুজ প্রণালিকে তেহরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রণালিটি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছে। এখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য অবশ্যই ইরানি মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল পরিশোধ করতে হবে।
দ্রুত জ্বালানি সক্ষমতা ফেরাতে চায় ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সচল করার লক্ষ্য নিয়েছে ইরান। দেশটির জ্বালানি খাতে চালানো বড় ধরনের হামলার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার আগের তুলনায় অন্তত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার আশা করছেন তারা। ইরানের উপ-তেলমন্ত্রী মোহাম্মদ সাদেক আজিমিনিফার স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে বলেন, ইতোমধ্যে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। লাওয়ান তেল শোধনাগারের একটি অংশ আগামী ১০ দিনে চালু হতে পারে।
হরমুজে বেসামরিক জাহাজ চলতে পারবে: আইআরজিসি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত। শুধু সামরিক জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধের হুমকির পর এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় ইরানের সামরিক বাহিনী। তাতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে হরমুজ প্রণালি বেসামরিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে কোনো সামরিক জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানে নিহত তিন হাজার ৩৭৫ জন, আহত দুই হাজার ১১৫ শিশু
ইরানের ফরেনসিক মেডিসিন সংস্থার প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধে নিহত তিন হাজার ৩৭৫ জনের মৃতদেহ কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করেছে। ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরানি বলেন, নিহতদের মধ্যে দুই হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং প্রায় ৫০০ জন নারী রয়েছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত দুই হাজার ১১৫ শিশু ও কিশোর আহত হয়েছে। ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলায় আহতদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার নারী রয়েছেন।
ইরান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানজুড়ে অন্তত ৯৪২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আধাসরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, যে স্কুলগুলোর মেরামতের প্রয়োজন, সেগুলো দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ করা হবে।





