কি ভেবেছেন নিজেকে? এতটাই সাধু সন্ন্যাসী আপনি? যখন যা খুশী তা-ই বলে যাবেন। মুখে যা আসে গলার রগ ফুলিয়ে, চোখের মনি গোলকার বানিয়ে বমি করতে থাকবেন আর সবাই চুপ করে তা গিলবে? এতটা সহজ মনে করেছেন কেন সবকিছু? জ্বি আপনাকেই বলছি মি. ব্যারিস্টার। কাদের গুন্ডা-পান্ডা বলছেন আপনি? জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। যাদের রাজনীতি ও উদারতার সুযোগ নিয়ে দেশে বহু দলীয় রাজনীতির সুবিধা নিচ্ছেন। শহীদ জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুবিধা নিয়ে আজ অনেকেই বড় বড় কথা বলে। আপনিও তাদের সাথে মিশে গেলেন। অবশেষে নিজের রং চিনালেন। আরো একটু আগের কথা যদি মনে করেন তাহলে তো বলতে হয় নিজের জীবন বিপন্ন করে পরিবারকে তুচ্ছ জ্ঞান করে ‘আই রিভোল্ট’ বলে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান। সে মাটিতে দাঁড়িয়েই এমন কথা বললেন? দ্বিতীয় বার ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আধিপত্যবাদ শক্তির বিরুদ্ধে বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বোভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সেই দেশে বসেই তাঁর হাতে গড়া জাতীয়তাবাদী শক্তির অন্যতম ভ্যানগার্ড জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গুন্ডা-পান্ডা আখ্যা দিলেন। ইতিহাস ঘেঁটে দেখেন তো কত বার এই ছাত্রদলের অকুতোভয় সাহসী ছেলেরা দেশের গণতন্ত্র আদায়ের সংগ্রামে লড়াই করেছে এবং প্রতিবারই তারা বিজয়ী হয়েছে। ‘৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে এই সাহসী ছাত্ররা। ‘৯৬-২০০১ সালের আওয়ামী বিরোধী আন্দোলনে একমাত্র রাজপথে মিছিল মিটিং, আন্দোলন-সংগ্রাম করা দলের ছেলেদের আপনি গুন্ডাপান্ডা হিসেবে দেখলেন। সদ্য বিদায় হয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট বিরোধী সংগ্রামে ধারাবাহিকভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন- সংগ্রাম করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এসব তো ইতিহাস। ছাত্রদলের ইতিহাস, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস।
সচেতন মানুষ বুঝতে পারছে পরবর্তী নির্বাচনে নিছক একটি এমপি পদে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কাউকে বা কোন গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য আপনি এই নোংরা কথা বলেছেন। অথচ ভেবে দেখেছেন কি, বর্তমান সময়ে দেশে যে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান সে পদ্ধতির প্রবর্তকও শহীদ জিয়ার সহধর্মিণী গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর স্নেহধন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিটি নেতা-কর্মী। আর ২০০১ সাল থেকে এই ছাত্রদলের ছায়া অভিভাবক হিসেবে কাজ করছেন শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া দম্পতির সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসলে আপনি কি সত্যি এমন কথা বলেছেন মি. ব্যারিস্টার? আমার বিশ্বাস হতে কষ্ট হচ্ছে। কোন অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তি ছাড়া এমন কথা বলতে পারে আমার বিশ্বাস হয় না।
মি. ব্যারিস্টার নিকট অতীতেও আপনি এমন ধ্বংসাত্মক কথা বলেছেন। আপনি বলেছেন বাংলাদেশ নিরাপত্তা বাহিনীর কোন প্রয়োজন নেই। আপনি আঙ্গুল উঁচিয়ে এই দেশরক্ষা বাহিনীকে বিলুপ্তির দাবী করেছেন। বাহিনীর পদধারী কোন ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে আপনার ব্যক্তিগত ক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু পুরো বাহিনী বিলুপ্ত করার দাবীর মাজেজা কি? কার স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছেন আপনি? যুগে যুগে প্রমাণিত গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও দেশপ্রেমিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি নোংরা ও ষড়যন্ত্রমূলক কথা বলে কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে পা বাড়াচ্ছেন নব্য রাজনীতিক মি. ব্যারিস্টার?
কিছু ইউটিউবার নানা কসরত ও গালিগালাজ করে ভিডিও আপ করে ভিউ’র মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। এদিকে দুর্মুখরা বলছে, আপনারও নাকি বেনামে এরকম কিছু একটা করছেন। মাঝে মাঝে এ ধরণের আবোল-তাবোল বলে ভিউ ব্যবসাকে রমরমা করার চেষ্টা করেন। তবে মনে রাখবেন আগুন নিয়ে খেলা সব সময় অনুকূলে থাকে না মি. ব্যারিস্টার।
*লেখাটির সাংবাদিক মাহমুদ হাসানের ফেসবুক থেকে নেয়া*





