লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ঘুমন্ত চালকের অবহেলায় প্রাণ গেল একই পরিবারের সাতজনের। প্রবাসী বাহার উদ্দিনকে আনতে ঢাকায় গিয়ে ফেরার পথে মাইক্রোবাসটি খালে পড়ে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাণ হারিয়েছেন বাহারের স্ত্রী, মেয়ে, মা, নানী, ভাবি ও দুই শিশু ভাতিজি। বেঁচে ফিরেছেন বাহার, তার বাবা, শ্বশুরসহ ৫ জন।
জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে কুমিল্লা ও ফেনী পার হওয়ার পর একবার দুর্ঘটনার কবল থেকে বাঁচে গাড়িটি। চালক রাসেলকে একাধিকবার ঘুমের কারণে সতর্ক করা হলেও তিনি কথায় কর্ণপাত করেননি। অবশেষে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পূর্ব বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি ৩০ ফুট গভীর খালে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় চালক ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠে গাড়ি চালাতে গিয়ে বিপত্তির সৃষ্টি করে। গাড়ি পানিতে পড়ে গেলে সে নিজে কাঁচ নামিয়ে পালিয়ে যায়, কিন্তু আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে কোনো চেষ্টা করেনি।
চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একসঙ্গে সাতটি মরদেহ নিয়ে শোকের মাতম। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন প্রবাসী বাহার ও তার স্বজনরা। তিনি বলেন, “চালকের ঘুম আমার পুরো পরিবারকে চিরঘুমে পাঠিয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা দেখেননি। চালকের গাফিলতিকে দায়ী করে তারা সবার প্রতি আহ্বান জানান—ঘুম নিয়ে যেন কেউ গাড়ি না চালায়। আধাঘণ্টা দেরি হলেও যেন প্রাণ না যায়।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোবারক হোসেন ভূঁইয়া জানান, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।





