সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখনো এ বিষয়ে দিল্লি থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই। বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হয়েছে। তবে ভারত থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক উত্তর আসেনি। বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেউ আসুক বা না আসুক, বিচার তো আটকে থাকতে পারে না।”
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হবে কি না— জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “সরকার প্রয়োজন মনে করলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিতে পারে। তবে এ মুহূর্তে তেমন কোনো প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে না।”
সীমান্তে ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। ভারতের কোনো নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে কিংবা বাংলাদেশের কেউ ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করলে, বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধান হওয়ার কথা।”
“কিন্তু ভারত ‘পুশইন’ করছে, যা নিয়মবহির্ভূত ও দুঃখজনক। আমরা এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি,” বলেন তিনি।
তিনি জানান, ভারত থেকে প্রেরিত তালিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশ তার নাগরিক শনাক্ত করে ফিরিয়ে নিচ্ছে। “তবে তালিকা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। আমরা এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় রয়েছি।”
কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় কী— জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “একটি বিষয় অনস্বীকার্য— আমরা এ নিয়ে যুদ্ধ করবো না নিশ্চয়ই। তাহলে একমাত্র পথ হলো কূটনৈতিক আলোচনা। সেটিই আমরা করছি। যদিও এখনো বড় ধরনের সাফল্য আসেনি, তবুও আমরা আশাবাদী।”





