পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মাদারীপুর শহরের ইটেরপুল খাদ্য ভাণ্ডার থেকে ভিজিডি কর্মসূচির ২০ টন চাল একটি ট্রাকে করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। পথে ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকটি থামিয়ে বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে চালসহ ট্রাকটি জব্দের নির্দেশ দেন। এ সময় রাজৈর উপজেলার মুন্সি রাইস অ্যান্ড বয়লার মিলের স্বত্বাধিকারী মো. আহাদ মুনশি জানান, চালগুলো তার মিলের জন্য বরাদ্দ ছিল। এ সময় তিনি তার অপরাধ স্বীকার করে নেন।
ডাসার উপজেলা খাদ্য অফিস জানায়, চলতি মাসের ১২ এপ্রিল জেলার চরমুগরিয়া খাদ্য ভান্ডার থেকে আহাদ মুনশি ৫৩ মে. টন চাল বরাদ্দ পান।
মাদারীপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শেখ জিকরুল আলম বলেন, ‘খাদ্য ভান্ডার থেকে যে চাল বরাদ্দ হবে মিল মালিককে সেখান থেকে চাল সংগ্রহ করে নির্ধারিত মিলে নিতে হবে এবং সরকারি এ চাল অন্য জেলায় প্রবেশ করারও সুযোগ নেই।
শহরের ইটেরপুর খাদ্য ভান্ডারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় মল্লিক বলেন, ‘আহাদ মুনশি একজন মিলার। তার মিলের জন্য ভিজিডি চাল বরাদ্দ হয়েছে। এই চাল আহাদ মুনশির মিলে যাবে।
এ সম্পর্কে আহাদ মুনশি বলেন, ‘কোটালীপাড়ায় আমার একটি মিল আছে। রাজৈর যে মিলে চাল বরাদ্দ হয়েছে সেই মিলের মোটর নষ্ট তাই কোটালীপাড়ার চাল মিলে এই চাল নিয়ে যাচ্ছিলাম। এক মিলের চাল অন্য মিলে নেওয়া আমার ভুল ছিল।’
ডাসার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমরা ২০ টন সরকারি চাল ট্রাকসহ জব্দ করেছি। এ চাল অনিয়ম করে গোপালগঞ্জে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে চাল জব্দ দেখিয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’





