মাদারীপুর থেকে ২০ টন সরকারি চাল চোরাইপথে গোপালগঞ্জে নেওয়ার সময় জব্দ

মাদারীপুরে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত ২০ টন সরকারি চাল চোরাই পথে গোপালগঞ্জে নেওয়ার সময় জব্দ করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকা থেকে চালসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মাদারীপুর শহরের ইটেরপুল খাদ্য ভাণ্ডার থেকে ভিজিডি কর্মসূচির ২০ টন চাল একটি ট্রাকে করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। পথে ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকটি থামিয়ে বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়।

 

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে চালসহ ট্রাকটি জব্দের নির্দেশ দেন। এ সময় রাজৈর উপজেলার মুন্সি রাইস অ্যান্ড বয়লার মিলের স্বত্বাধিকারী মো. আহাদ মুনশি জানান, চালগুলো তার মিলের জন্য বরাদ্দ ছিল। এ সময় তিনি তার অপরাধ স্বীকার করে নেন।

ডাসার উপজেলা খাদ্য অফিস জানায়, চলতি মাসের ১২ এপ্রিল জেলার চরমুগরিয়া খাদ্য ভান্ডার থেকে আহাদ মুনশি ৫৩ মে. টন চাল বরাদ্দ পান।

নিয়ম অনুযায়ী, মিল মালিক চরমুগরিয়া খাদ্য ভান্ডার থেকে চাল নিয়ে সরাসরি রাজৈর উপজেলায় অবস্থিত মুন্সি রাইস অ্যান্ড বয়লার মিলে নিয়ে যাবে। কিন্তু মিল মালিক সরকারি চাল তার মিলে না নিয়ে কালোবাজারি করে তা গোপালগঞ্জে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। যা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও অপরাধ। 

মাদারীপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শেখ জিকরুল আলম বলেন, ‘খাদ্য ভান্ডার থেকে যে চাল বরাদ্দ হবে মিল মালিককে সেখান থেকে চাল সংগ্রহ করে নির্ধারিত মিলে নিতে হবে এবং সরকারি এ চাল অন্য জেলায় প্রবেশ করারও সুযোগ নেই।

২০ টন চাল জব্দের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এখানে অনিয়ম থাকলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

শহরের ইটেরপুর খাদ্য ভান্ডারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় মল্লিক বলেন, ‘আহাদ মুনশি একজন মিলার। তার মিলের জন্য ভিজিডি চাল বরাদ্দ হয়েছে। এই চাল আহাদ মুনশির মিলে যাবে।

সেখানে যদি চাল না নেন তাহলে তিনি অপরাধ করেছেন। চাল নিয়ে মিলার কোনদিকে যাবে তা তো আমি দেখব না। এটা আমার দেখার দায়িত্ব না। আমি পরিমাণমতো চাল দিয়েছি, আমার কাজ শেষ।’ 

এ সম্পর্কে আহাদ মুনশি বলেন, ‘কোটালীপাড়ায় আমার একটি মিল আছে। রাজৈর যে মিলে চাল বরাদ্দ হয়েছে সেই মিলের মোটর নষ্ট তাই কোটালীপাড়ার চাল মিলে এই চাল নিয়ে যাচ্ছিলাম। এক মিলের চাল অন্য মিলে নেওয়া আমার ভুল ছিল।’

ডাসার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমরা ২০ টন সরকারি চাল ট্রাকসহ জব্দ করেছি। এ চাল অনিয়ম করে গোপালগঞ্জে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে চাল জব্দ দেখিয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ