টেস্ট অধিনায়ক কে হচ্ছে জানতে চাওয়া হলে একদিন রহস্য করে নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলছিলেন, ১৫ জনের যে কারও অধিনায়ক হওয়ার সুযোগ আছে। সেই নাজমুল আবেদীনকেই এখন টেস্টের অধিনায়ক খোঁজার জন্য আলাদা করে মিটিং করতে হয়। বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে আগ্রহীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার ফাঁকে হয়েছে একটি বিশেষ সভা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে সহসভাপতি ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ও পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন সেই সভায়। বিসিবির একাধিক পরিচালক সমকালকে নিশ্চিত করেছেন, সাবেক চার ক্রিকেটারের মিটিংটি ছিল টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচন করা নিয়ে। জানা গেছে, তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে লিটন কুমার দাসকে আপৎকালীন টেস্ট অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মুমিনুল হককে প্রথম পছন্দ ছিল বিসিবির। ক্রান্তিকালে টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে বাঁহাতি এ ব্যাটারের। ২০১৯ সালে সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করায় মুমিনুল তাঁর ছোট্ট কাঁধে টেস্টের ভার নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিতে বলা হলে রাজি হননি। কয়েকদিন আগে মুমিনুল হক নিজেই সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাজমুল হোসেন শান্তকে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। টেস্ট অধিনায়কের বিবেচনায় থাকা বাকি দুজন হলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন কুমার দাস। ওয়ানডেতে মিরাজের নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এ কারণে মিরাজকেও টেস্টে অধিনায়ক করার পক্ষে না বিসিবি। আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ফারুক আহমেদরা লিটনের ওপরই আস্থা রাখার পক্ষে মত দেন।
লিটন পছন্দের শীর্ষে না থাকার কারণ হলো তাঁর অধারাবাহিকতা। একজন পরিচালক বলেন, ‘লিটন ধারাবাহিক হলে চিন্তা করতে হতো না। ও তো মাঝে মধ্যে দলে থাকে না। অধিনায়ক নির্বাচনের সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন পরিচালক বলেন, ‘ক্রিকেটীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আমরা চারজন বসেছিলাম। শাখাওয়াত হোসেন ভাই তখন ছিলেন না। টেস্টের অধিনায়ক কাকে করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে। এ রকম আলোচনা বোর্ডে প্রায় হয়।’
বিশেষ সভায় অন্য কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটাররা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই। বৃহস্পতিবারও চারজন বসেছিলাম। আমরা নিজেরা একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে অন্য কোনো কিছু হয়নি। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।’
ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে একটি উপকমিটি করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। কোনো উপকমিটি হচ্ছে না। স্ট্যান্ডিং কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে।’ গাজী আশরাফ হোসেন লিপু চেয়ারম্যান থাকার সময় ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের একটি টেকনিক্যাল কমিটি ছিল। ওই কমিটি কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্রিকেটার বাছাই, জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেল, কোচিং প্যানেল, সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগের সুপারিশ করত।





