স্বাস্থ্যকর বলে মনে হলেও যেসব খাবার হতে পারে বিপজ্জনক

পৃথিবীতে অসংখ্য খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায়, তবে সব খাবারই যে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তা নয়। কিছু খাবার আমাদের কাছে স্বাস্থ্যকর বলে মনে হলেও, বাস্তবে সেগুলো মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খাওয়া হলে বিষক্রিয়ার মতো প্রভাব ফেলতে পারে এবং হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি হতে হতে পারে।

এসব খাবার যে কোনো মূল্যে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো শরীরে বিষের মতো কাজ করতে পারে। নিচে এমন কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো এবং সতর্কতামূলক পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

সবুজ আলু: মারাত্মক বিষাক্ত

অনেক সময় আলুর কিছু অংশ সবুজ হয়ে যায়, বা পুরো আলুই সবুজাভ হতে পারে। এই ধরনের আলুতে “সোলানিন” নামক এক ধরনের নিউরোটক্সিন থাকে, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি খেলে মাথাব্যথা, পেটব্যথা, বমি, এমনকি পক্ষাঘাতের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে। চরম ক্ষেত্রে কোমা বা মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই সবুজ আলু খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

জায়ফল: সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই ভালো

জায়ফল সাধারণত রান্না ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তবে এতে থাকা “মাইরিস্টিসিন” নামক একটি সক্রিয় যৌগ বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত জায়ফল খেলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এটি পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করাই শ্রেয়।

তেতো বাদাম: বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি

আমরা সাধারণত বাদামকে পুষ্টিকর মনে করি, তবে তেতো বাদাম বিপজ্জনক হতে পারে। তেতো বাদামে “হাইড্রোজেন সায়ানাইড থাকে, যা শরীরের জন্য বিষাক্ত। বেশি পরিমাণে তেতো বাদাম খেলে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাদাম কেনার সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং তেতো বাদাম এড়িয়ে চলতে হবে।

কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা কিডনি বিন: বিপজ্জনক হতে পারে

কিডনি বিন বা রাজমা পুষ্টিকর হলেও এটি ভালোভাবে রান্না না করলে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। এতে থাকা “লেকটিন” নামক একটি বিষাক্ত উপাদান বমি, পেট ব্যথা এবং অন্যান্য সমস্যার কারণ হতে পারে। কিডনি বিন যথাযথভাবে রান্না করলে এই ক্ষতিকর প্রভাব দূর হয়।

বাদামী চাল: আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকি

অনেকেই স্বাস্থ্যকর ভেবে বাদামী চাল গ্রহণ করেন, তবে এতে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাদামী চাল রান্নার আগে অন্তত ৫-৬ বার ধুয়ে নেওয়া, ৩০-৬০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখা এবং সেই পানি পরিবর্তন করে রান্না করা উচিত। এতে আর্সেনিকের পরিমাণ কমে যায় এবং এটি তুলনামূলক নিরাপদ হয়।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ