পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সম্পর্কে তৃতীয় কারও প্রবেশের জন্যেই নাকি প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে হিরণের। গেল বছরের শুরু থেকেই গুঞ্জন ছিল দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন অভিনেতা। এবার গুঞ্জন সত্যি করে মঙ্গলবার দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেন নায়ক। বিয়ের পর মুখ খুলেছেন তার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা।
হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ঋত্বিকা গিরি। পেশায় তিনি মডেল। মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে নিজেই এই সুখবর ভাগ করে নেন নায়ক। তবে কিছুক্ষণ পরেই সেই পোস্ট সরিয়ে ফেলেন তিনি।
প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা ও হিরণের সংসারে ১৯ বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। একসময় হিরণের পাশে ঢাল হয়ে ছিলেন তার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। যিনি পেশায় ডিজাইনার। চালান নিজের বুটিক ও ক্যাফে। দুজনের ছাড়াছাড়ির খবর এসেছিল অবশ্য বছরখানেক আগেই। হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার।
সেখানে অনিন্দিতা বলেন, ‘আমাদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। আমার স্বামীর নাম হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর বিয়ে হয়েছিল আমাদের। গত বছর আমাদের বিয়ের ২৫ বছর পূর্ণ হয়। আমাদের ১৯ বছরের মেয়ে রয়েছে। আইনি বিচ্ছেদের কোনও প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি।’
হিরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমার ও আমার মেয়ের উপর অত্যাচার চলছিল। কিন্তু শুধুমাত্র আমার মেয়ের মুখ চেয়ে এবং পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এত দিন চুপ ছিলাম। সবাই তো ভাবেন মারধর করা মানেই অত্যাচার। কিন্তু আমি আর মেয়ে যে কী মানসিক অত্যাচারের শিকার, তা বলে বোঝাতে পারব না। এর মধ্যেও আমি নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবসময় ভেবেছি হিরণ সম্পর্কে কিছু বললে আমার মেয়ের গায়েও কাদা আসবে। কিন্তু ও (হিরণ) যেটা করল এবার তো আমাকে নড়েচড়ে বসতেই হবে। ও নিজেই সব বাঁধ ভেঙে দিল। এই বিয়ে তো বেআইনি। সবচেয়ে কুৎসিত লাগছে, যে মেয়েটির সঙ্গে ছবি দিয়েছে সে প্রায় আমাদের মেয়েরই বয়সী। আমাদের ১৯ বছরের মেয়ে এখন মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী। ওর মনে যা প্রভাব পড়ছে তা আমি বোঝাতে পারব না। ওকে সামলানোই এখন আমার মূল উদ্দেশ্য।”
হিরণ চট্টোপাধ্যায়, অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। ছবি: কোলাজ
হিরণ চট্টোপাধ্যায়, অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। ছবি: কোলাজ
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের হরনাথ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘নবাব নন্দিনী’ চলচ্চিত্র দিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের অভিষেক হয়। ২০০৮ সালে ‘ভালবাসা ভালবাসা’, ‘চিরসাথী’ দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পান তিনি। এরপর ‘মন যে করে উড়ু উড়ু’, ‘লে হালুয়া লে’, ‘মাচো মস্তান ‘সহ বেশকিছু সিনেমার অভিনয় করেন।
এছাড়া ২০২১ সালের তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। একই বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর আসনে জয়লাভের মাধ্যমে বিধায়ক নির্বাচিত হন। সূত্র: আনন্দবাজর