চট্টগ্রামে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত র্যাব কর্মকর্তা হলেন- ডিএডি মো. মোতালেব। তিনি বিজিবি সদস্য। র্যাব-৭-এ কর্মরত ছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, র্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযানে যান। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হন। তাদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এই দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র বাহিনী।
অভিযানের সময় এক ব্যক্তি র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। ছবি: সংগৃহত
অভিযানের সময় এক ব্যক্তি র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। ছবি: সংগৃহত
জঙ্গল সলিমপুরে বসবাসকারীদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র রয়েছে বলে জানা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একাধিকবার সেখানে অভিযান পরিচালনার সময় সশস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই অপরাধ সাম্রাজ্যের পেছনে রয়েছে দুটি শক্তিশালী সংগঠন। এর একটি হলো ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। অপরটি ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যেটি কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, এই দুই সংগঠনের সদস্য প্রায় ৩০ হাজার। দখল করা পাহাড়ি জমিতে বসতি স্থাপন, প্লট বাণিজ্য এবং অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় সংগঠিতভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুই পক্ষ এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিরোধ ও সহিংসতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।