এক ঝড়ে সব শেষ, দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা শিরিনা

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে বসতঘর হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শিরিনা খাতুন (৩২)। বর্তমানে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশীর বাড়িতে।

উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা শিরিনা খাতুনের শ্বশুরের দেওয়া মাত্র এক শতাংশ জমির ওপর ছিল ছোট্ট একটি ঘর। সেই ঘরেই স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার চলছিল।

কিন্তু দুই দিন আগে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মুহূর্তেই ভেঙে যায় তার একমাত্র বসতঘর। 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন শিরিনা। চোখেমুখে হতাশা আর অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।

শিরিনা জানান, তার স্বামী খোকন মিয়া ঢাকায় রিকশা চালিয়ে সংসার চালান।

পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ও এক বছর বয়সী ছেলে নিয়ে তাদের ছোট্ট সংসার। ঝড়ের দিন প্রবল বাতাস শুরু হলে সন্তানদের নিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই গাছ পড়ে তার ঘরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। 

তিনি বলেন, ‘ঘর ভেঙে যাওয়ার পর এখন প্রতিবেশীর বাড়িতেই থাকতে হচ্ছে।

এই এক শতাংশ জমি আর ঘরটাই ছিল আমার সবকিছু। স্বামীর সামান্য আয়ে সংসারই ঠিকমতো চলে না, নতুন করে ঘর তোলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’ 

প্রতিবেশীদের সহায়তায় আপাতত দিন কাটছে তাদের। এলাকাবাসীর মতে, সরকারি সহায়তা বা বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে পরিবারটি আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পেতে পারে।

প্রতিবেশী মালেকা খাতুন জানান, ঝড়ের রাতে তারা শিরিনাকে আশ্রয় দেন।

সময়মতো ডেকে না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। দ্রুত সহায়তা না পেলে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এদিকে, সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছে উপজেলা প্রশাসন। শিরিনা খাতুনের বিষয়টি জানার পর দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী শিরিনাকে সরকারি নিয়মে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ