সাউথ্যাম্পটনকে হারিয়ে ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি

পুরোটা সময় কোণঠাসা থেকে মুহূর্তের চমকে আরেকটি অঘটনের সম্ভাবনা জাগাল সাউথ্যাম্পটন। তবে ওই ধাক্কায় এলোমেলো হলো না ম্যানচেস্টার সিটি। বরং ঘুরে দাঁড়িয়ে, পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে এফএ কাপের ফাইনালে উঠল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।

 

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার প্রথম সেমি-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে সিটি।

 

প্রতিপক্ষের অনেক সুযোগ নষ্টের মাঝে, ফিন এজাজের অসাধারণ এক গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনালকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠা সাউথ্যাম্পটন। একটু পরই কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় সমতা টানেন জেরেমি ডোকু, আর এরপর ব্যবধান গড়ে দেন নিকো গন্সালেস।

কোচ গুয়ার্দিওলার হাত ধরে অনন্য এক কীর্তি গড়ল ম্যানচেস্টার সিটি। প্রথম ক্লাব হিসেবে তারা টানা চারবার উঠল এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে।

আগের ম্যাচের দল থেকে আটটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান গুয়ার্দিওলা। তাতে প্রথমার্ধে প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেনি তারা। পরে পিছিয়ে পড়তে হয়, তবে হাল না ছাড়ার মানসিকতায় দলটি পেরিয়ে গেল সব বাধা।

পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সিটি; তবে সেটা হতে দেননি সাউথ্যাম্পটন গোলরক্ষক। টিয়ানি রেইন্ডার্সের শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন দানিয়েল পেরেৎস, বল তার হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগে।

প্রথমার্ধে গোলের জন্য আরও পাঁচটি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি সিটি।

কিছুক্ষণ পর পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার লেও সিনজা জালে বল পাঠালে গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়ে সাউথ্যাম্পটনের সমর্থকরা, যদিও একটু পরই বাজে অফসাইডের বাঁশি।

বিরতির পর আক্রমণে জোর দেয় সিটি। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভালো দুটি সুযোগও তৈরি করে তারা; কিন্তু কাছ থেকে ওমার মার্মুশ লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেওয়ার পর, সাভিনিয়োর প্রচেষ্টা আটকে দেন গোলরক্ষক।

৭১তম মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন করেন গুয়ার্দিওলা। মার্মুশ ও রায়ান আইত-নুরিকে তুলে আর্লিং হলান্ড ও নিকো ও’রাইলিকে নামান কোচ।

এর পরপরই প্রতিপক্ষের বক্সে ভীতি ছড়ায় সিটি। নিকো গন্সালেসের শট আটকে দেন গোলরক্ষক, হায়ান শেহকির শট রক্ষণে প্রতিহত এবং তৃতীয় প্রচেষ্টায় রেইন্ডার্সের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

শুরু থেকে প্রায় পুরোটা সময় ঘর সামলাতে ব্যস্ত থাকা সাউথ্যাম্পটন ৭৯তম মিনিটে ওই চমৎকার গোলে সিটিকে চমকে দেয়। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে পাল্টা আক্রমণে উঠে, কয়েকজন সতীর্থের পা ঘুরে বল পান ফিন এজাজ এবং শরীরটাকে পুরো ঘুরিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল উঁচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।

ধাক্কা সামলে পাল্টা আঘাত হানতে অবশ্য দেরি করেনি সিটি। তিন মিনিট পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন জেরেমি ডোকু এবং বল প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে সামান্য দিক পাল্টে জালে জড়ায়।

৮৭তম মিনিটে আরেকটি দর্শনীয় গোলে এগিয়ে যায় সিটি। অনেকটা দূর থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান নিকো গন্সালেস।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দিতে পারতেন ডোকু। সাউথ্যাম্পটন গোলরক্ষক কী বুঝে উঠে আসেন প্রায় মাঝমাঠে, সেখানে বল পেয়ে যান বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড, কিন্তু শট না নিয়ে সময় নষ্ট করে সুবর্ণ সুযোগটা হারান তিনি।

পরে আর কোনো অঘটন না ঘটায়, অমন সুযোগ নষ্টের হতাশা পেয়ে বসেনি ডোকু ও তার দলের।

সবশেষ ২০২৩ সালে ও মোট সাতবারের শিরোপাজয়ীরা ফাইনালে খেলবে চেলসি অথবা লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ