দেশের বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত। পাঁচশোর অধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয় করেছেন সিনেমাতেও। শুধু যে অভিনয় করেন তা কিন্তু নয়, তিনি ক্যামেরার পেছনেও কাজ করেন। মানে নির্মাণও করেন। দেশের বড় বড় উৎসবে তাঁর নির্মিত নাটক প্রচার হয়, হয় প্রশংসিতও। বয়স ৮১ পেরিয়েছে। এখনও দাপুটে অভিনেতা তিনি। ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে বলছেন লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন…। এবার তিনি নির্মাণ করছেন আগামী ঈদুল ফিতরের নাটক।
কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের ছোটগল্প ‘সখিনা’। বাংলা সাহিত্যের বেশ জনপ্রিয় একটি গল্পের মধ্যে এটি একটি। সেই গল্পকে নাট্যরূপে পর্দায় তুলে আনছেন আবুল হায়াত। জানিয়েছেন, একই নামের এই নাটকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘সখিনা’ চরিত্রটির জন্য একজন উপযুক্ত অভিনেত্রী খুঁজছিলেন তিনি। অবশেষে সেই খোঁজের সমাপ্তি ঘটেছে। তাই তাঁকে নিয়েই নেমেছে নির্মাণে। এই সখিনা চরিত্রে অভিনয় করছেন উপস্থাপক ও অভিনেত্রী মৌসুমী মৌ।
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের একটি রিসোর্টে গত মঙ্গলবার শুটিং শুরু হয়। এরপর বুধবার শেষ হয় নাটকটির শুটিং। আগামী রোজার ঈদে এটি প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন মৌসুমী মৌ। শুটিংয়ের কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, কিংবদন্তি আবুল হায়াত স্যারের নির্দেশনা ও চিত্রনাট্যে তৃতীয়বারের মতো অভিনয় করার সুযোগ হলো আমার। শ্রদ্ধেয় রাবেয়া খাতুনের ছোটগল্প ‘সখিনা’ অবলম্বনে নির্মিত রোজার ঈদের নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি।”
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাটকটিতে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন শ্যামল মাওলা, নরেশ ভূঁইয়া, শিরিন আন্টিসহ আরও অনেকে। বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইঞ্জিনিয়ার বদরুল হাসান খান।
আবুল হায়াত ও শিরিন আন্টির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মৌ লেখেন, ‘আবুল হায়াত বাবা আর শিরি মা আমার কাছে আরেকটি পরিবার। তাদের সঙ্গে কাজ করা মানে কেবল কাজ নয়, একটা আনন্দভ্রমণ। শিরি আন্টির পরামর্শ আমাকে সবসময় সমৃদ্ধ করে। আমাকে বিশ্বাস করে এই চরিত্রটি দেওয়ার জন্য আবুল হায়াত বাবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
নাটকের গল্প প্রসঙ্গে মৌসুমী মৌ বলেন, ‘এটি একটি গ্রামীণ পটভূমির গল্প, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র সখিনা। তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা, তার ভবিষ্যৎকে জটিল করে তোলে। সেই দুর্ঘটনার কারণেই সখিনার বিয়ে দিতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়।’ দুই বছর পর অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সখিনার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছর পর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। কাজটি আমার জন্য বিশেষ ছিল, কারণ গল্পটি রাবেয়া খাতুনের আর নির্দেশনায় আবুল হায়াত। চরিত্রটিতে ভাষাগত কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে আবুল হায়াত স্যারের সঙ্গে কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো– তিনি প্রতিটি দৃশ্য নিজে অভিনয় করে দেখান। এতে চরিত্র বোঝা অনেক সহজ হয়ে যায়।’
সখিনা চরিত্রে মৌসুমী মৌকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আবুল হায়াত বলেন, “মৌ মূলত উপস্থাপক। অভিনয় কম করলেও যখন করে, নিজের সেরাটা দেয়। আমি মনে করেছি, চরিত্রটির জন্য সে উপযুক্ত। আগেও তার সঙ্গে কাজ করেছি, শিডিউলও মিলে গেছে। সব মিলিয়েই নির্বাচনটা সহজ হয়েছে।”
৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি টেলিভিশন নাটক ও সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করে আসছেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা আবুল হায়াত। সবকিছু ছাপিয়ে একজন লেখকও তিনি। আগামী একুশে বইমেলায় আবুল হায়াতের তিনটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এগুলো হলো– ‘এলোমেলো ভাবনায় আশিতে আসিলাম’, ‘ঘোর’ এবং প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন ও তাঁর যৌথ বই ‘যুগলবন্দি’।





