বিশ্বকাপ না খেললে যে ক্ষতি বাংলাদেশের

বিসিবি ও আইসিসি– দুপক্ষই বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড়। নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না। আইসিসির কথা হলো, ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হবে। এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ নাও খেলা হতে পারে লিটন কুমার দাসদের।

বিশ্বকাপ খেলা হবে না– এমন মানসিক প্রস্তুতি মোটামুটি নিয়ে ফেলেছেন ক্রিকেটাররা। আইসিসি ও বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বিশ্বকাপ পরিকল্পনা সাজাতে পারছেন না বিসিবির কাছ থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়ায়। বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ কোচিং প্যানেলের কাছ থেকে দুদিন সময় চেয়ে নিয়েছে সিদ্ধান্ত জানাতে।

এ থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার, বিশ্বকাপ খেলা-না খেলার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে। বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত হলে আর্থিক ও ক্রিকেটীয় বড় ক্ষতির মুখে পড়বে দেশ। বিসিবির সাবেক পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি মনে করেন, বিশ্বকাপ না খেললে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্রিকেটবিশ্বে ইমেজ সংকটে পড়বে বাংলাদেশ।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন সমকালকে বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটারদের অধিকার। কোনো কোনো ছেলে হয়তো জীবনে প্রথম বিশ্বকাপ খেলবে। শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে হতাশ হবে ছেলেগুলো।’

বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হয়েছে বেশ আগে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে বাংলাদেশের জন্য সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি। এই টাকা বিসিবির বার্ষিক অনুদান থেকে কেটে নেওয়া হতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

বিসিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনেক বড় দল। সমর্থনের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তানের পর বাংলাদেশের অবস্থান। তারা না খেললে মিডিয়া রাইটস কেনা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ, স্কটল্যান্ডকে দিয়ে বাংলাদেশের শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। আমার জানামতে, আইসিসিতে আলোচনা হয়েছে, বাংলাদেশ না খেললে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দুই মিলিয়ন বা তারও বেশি ডলার কেটে রাখা হতে পারে বাংলাদেশের বরাদ্দ থেকে।’

বিসিবির ফিন্যান্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এম নজরুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, আইসিসি থেকে বছরে ২০.৪ মিলিয়ন ডলার পায় বাংলাদেশ। তবে টাকার চেয়েও বেশি ক্ষতি ক্রিকেটীয়।

এই বিশ্বকাপ বয়কট করা হলে পরবর্তী টি২০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে বাছাই লিগে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। টেস্টখেলুড়ে দেশ হিসেবে বিষয়টি মোটেও সুখকর হবে না বলে মনে করেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেললে ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে লাভবান হতো। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস এবং অংশগ্রহণ ফির টাকা জমা হতো বিসিবিতে। বিশ্বকাপে না খেলে সেই টাকা পাবে না। এর থেকেও বড় ক্ষতি বিশ্বের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে। এই ইমেজ পুনরুদ্ধারে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।’

তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপ খেলা-না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বিসিবিকে দেওয়া উচিত ছিল, ‘বিসিবি সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। এখানে সরকারি হস্তক্ষেপ বিপদ ডেকে এনেছে। এখন তো ইগো পর্যায়ে চলে গেছে। এই জায়গা থেকে বেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলা কঠিন।’

এবার টি২০ বিশ্বকাপের আয়োজক যৌথভাবে ভারত-শ্রীলঙ্কা হওয়ায় বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে শক্ত অবস্থান নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। একক ভেন্যু হলে সেটি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেরও যৌথ আয়োজক বাংলাদেশ ও ভারত। বিসিবি এবার টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করলে ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোও ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানাবে। এই বিবেচনা থেকেও আইসিসি শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ