টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই

টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসামির গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনানের শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশুটির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু।

ডা. হুমায়ুন কবীর বলেন, হুজাইফার মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মস্তিষ্কের চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি বা অবনতি হয়নি।

৯ বছর বয়সী হুজাইফা আফনান কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। গত রোববার সকালে দাদার সঙ্গে নাশতা আনতে গিয়ে মিয়ানমারের দিক থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত হয় সে। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কের চাপ কমাতে তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত মঙ্গলবার রাতে হুজাইফাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। তবে এখনও মাথার ভেতর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসকরা জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে মস্তিষ্কের রক্তনালির ক্ষতি ও একসঙ্গে স্ট্রোক হওয়ায় হুজাইফার চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। এ কারণে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে দেশেই তার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, মাইন বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আতঙ্কিত সীমান্তবাসী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল মানববন্ধন করেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে একের পর এক সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা চরম ঝুঁকিতে পড়ায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

গতকাল দুপুরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছি ব্রিজসংলগ্ন প্রধান সড়কে মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আরাকান আর্মির গুলিতে আহত শিশু আফনান এবং মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো হানিফের উন্নত চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে পুঁতে রাখা সব মাইন দ্রুত অপসারণ করতে হবে। সীমান্তে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কেউ যেন খেলতে না পারে।’

মানববন্ধনে আহত শিশু আফনানের বাবা জসিম উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। সরকার যে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। আমার মেয়ের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ব্যয়ের স্থায়ী দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

এ সময় উপস্থিত জেলেরা জানান, নাফ নদ বন্ধ থাকায় তারা মাছ ধরতে পারছেন না, ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, নাফ নদ সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকলেও সীমান্তে চোরাচালান ও অপরাধী সিন্ডিকেটের তৎপরতা থেমে নেই।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ