চিপস খাওয়া হলো না শিশু ফাইজার, প্রাণ গেল সরকারি গাড়ির চাপায়

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সরকারি গাড়ির চাপায় ফাইজা আক্তার নামে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ফাইজা তার মায়ের সঙ্গে উপজেলা চত্বরে আসে। একটু পরই সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহাম্মেদ মোফাচ্ছেরকে আনতে সরকারি জিপ গাড়িটি দ্রুতগতিতে উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রবেশ করে আর শিশুটিকে চাপা দেয়। এসময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক তাওবুর হোসেন।

নিহত শিশু ফাইজার বাবা মো. ফাইজুল হক একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায়।

ফাইজার মা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মেয়ে চিপস খেতে চেয়েছিল। আমি চিপস আনতে দোকানে গিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি দ্রুতগতিতে গাড়িটি এসে আমার মেয়েকে চাপা দেয়। নিমিষেই আমার কলিজার টুকরা চলে গেল বলে বাকরুদ্ধ হয়ে যান তিনি।

নিহত ফাইজার বাবা মো. ফাইজুল হক সমকালকে বলেন, আমার দুটি সন্তানের মধ্যে ছেলে বড় মেয়েটি ছোট। হোমনার স্কুলগুলো রাস্তার পাশে হওয়ায় আমি উপজেলা পরিষদের ভিতরে টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটে আমার ছেলেকে ভর্তি করিয়েছি। ফাইজা মায়ের কাছে চিপস খেতে চেয়েছিল, আমার মেয়েটির আর চিপস খাওয়া হলো না। এসিল্যান্ডের সরকারি গাড়ি আমার মেয়েকে কেড়ে নিল। আমি এর বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, ছেলেটির পরীক্ষা চলছিল বলে ফাইজা তার মায়ের সঙ্গে স্কুলগেটের বাইরে অপেক্ষা করছিল। আর সেই সময়ই এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত শিশুটির মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়ি বরিশালের উজিরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে এসিল্যান্ড আহাম্মেদ মোফাচ্ছের ও নবনিযুক্ত ইউএনও শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে ছুটে আসেন। শোকাহত বাবাকে জড়িয়ে ধরে তিনি নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এসিল্যান্ড আহাম্মেদ মোফাচ্ছের সমকালকে বলেন, ঘটনার সময় আমি গাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আসি। চালক নিজেই হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। আমাকে অন্য একটি নম্বর থেকে সে কল দিয়ে জানায়, তার মোবাইল গাড়িতে ছিল। গাড়ি রেখে সে হাসপাতালে যায়। পরে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। আমার সন্তানও এমন হতে পারত বলে তিনিও কাঁদেন। আমি এ ঘটনায় সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থায় সহায়তা করব।

দুর্ঘটনার পর চালক তাওবুর হোসেনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি গাড়িটি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে রেখে গেছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহিম বলেন, সকালে ফাইজা তার মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ে এসেছিল। তার বড় ভাই আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্লে-গ্রুপের শিক্ষার্থী। ফুটফুটে মেয়েটি গাড়ি চাপায় নিহত ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।

নিহত শিশু ফাইজার গাড়ি চাপায় মারা গিয়েছে শুনে ফাইজার বাবার সহকর্মীরা ও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে চাকুরীজীবী ও কিছু স্থানীয় লোকজন চালককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ