ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) জানিয়েছে ২০২৫ সালে দেশটির জন্মহার আরও হ্রাস পেয়ে এক নতুন ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। এই অব্যাহত পতন দেশের দীর্ঘমেয়াদী জনসংখ্যা সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত বছর ইতালিতে মাত্র ৩ লাখ ৭০ হাজার নতুন শিশুর জন্ম হয়েছিল, যা ১৮৬১ সালে ইতালি একত্রিত হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন রেকর্ড। এটি ছিল টানা ১৬তম বছর যেখানে জন্মহার নিম্নমুখী হয়েছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসেও এই নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন শিশুর জন্ম হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার এর সামান্য কম, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬.৩% কম।
জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রজনন হার, যা প্রজনন সক্ষম মহিলাদের প্রতি গড় সন্তানের সংখ্যা নির্দেশ করে, তা হ্রাস পেয়ে ১ দশমিক ১৩-এ দাঁড়িয়েছে। এটি গত বছরের রেকর্ড নিম্ন ১ দশমিক ১৮-এর চেয়েও কম।
ইতালির এই ক্রমাগত কমতে থাকা জন্মহারকে একটি ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং তার পূর্বসূরিরা এই সমস্যা মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিলেও জন্মহারের পতন থামানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে, একই দিনে প্রকাশিত পরিসংখ্যান ব্যুরোর অন্য একটি প্রতিবেদনে জনসংখ্যার বার্ধক্য নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। এই ক্রমবর্ধমান বার্ধক্য এবং অবসরের বয়স বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে বয়স্কদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুসারে ২০৫০ সালের মধ্যে ৫৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম বা কর্মপ্রত্যাশী মানুষের অংশ বর্তমান ৬১% থেকে বেড়ে ৭০% হবে।
অন্যদিকে, ৬৫-৭৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের অংশ বর্তমান ১১% থেকে বেড়ে ১৬% হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।





