সাভারে ৭ মাসে ৬ হত্যা, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার মশিউর

ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশ থেকে গত সাত মাসে ৬টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) ওরফে সাইকো সম্রাট নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সাভার মডেল থানার পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মশিউর ছয়টি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আজ সোমবার সকালে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার সাভার মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।

জানা যায়, দিনে ভবঘুরের মতো সরকারি হাসপাতাল ও থানার সামনেসহ সাভারের বিভিন্নস্থানে ঘুরাফেরা করতো সম্রাট। হাত পেতে মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা চেয়ে নিয়ে চলতো। কখনও ভাল আবার কখনও পাগলের মতো আচরণ করতো। এ জন্য অনেকেই তাকে সাইকো সম্রাট বলে ডাকতো। কিন্তু এই সাইকো সম্রাটই রাতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করতো। গত ৭ মাসে সে ৬ জনকে হত্যা করে গুমের উদ্দেশ্যে লাশ রাতের বেলায় পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউিনিটি সেন্টারে ফেলে রাখতো।

পুলিশ জানায়, সাভার মডেল থানা থেকে মাত্র ৫শ গজ সামনে এবং সাভার সরকারি কলেজ সংলগ্ন ব্যস্ততম থানা রোডের এ কমিউনিটি সেন্টারটিতে একের পর এক লাশ পাওয়ায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশও পড়ে বিপাকে। কিছুদিন আগে সাভার মডেল থানা পুলিশ গোপনে একটি সিসি ক্যামেরা সেখানে স্থাপন করে। গত রোববার দুপুরে আগুনে পোড়া দুই লাশ উদ্ধার হওয়ার পর ওই সিসি ফুটেজে দেখা যায় সম্রাট লাশ কাঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর পরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সম্রাট কমিউনিটি সেন্টারে ৫টি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও সাভার মডেল মসজিদের পাশে এক বৃদ্ধাকেও হত্যা করেছে বলে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম।

এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা এবং এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উঘাটনের জন্য সোমবার দুপুরে সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত মশিউর রহমান খান সম্রাট (৩৫) সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী মহল্লার মৃত সালামের ছেলে। সে সাভার থানার আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াত। গত রোববার দুপুরে সাভার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে সে পুলিশের কাছে শুধু তার বাবার নাম ও মহল্লার নাম বলেছে। আর কোন তথ্যই দেয়নি বলে পুলিশ জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত সম্রাট ভবঘুরে ছিলেন। কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ভিডিওতে দেখা যায় একটি মরদেহ কাঁধে নিয়ে ভবঘুরে সম্রাট হেঁটে যাচ্ছে। এরপরই তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে পাগল বলে মনে হয়নি। ভবঘুরে হিসেবে আমরা তাকে জানলেও তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের শিকার ৬ জনের মধ্যে ১ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি ৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান গতকাল রোববার দুপুরে ৯৯৯ এর মাধ্যমে পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দুটি মরদেহ পড়ে আছে বলে জানতে পারে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ৪ জুলাই দুপুরে সাভার মডেল মসজিদের পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগমের (৭৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ২৯ আগস্ট বিকেলে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো এবং দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা পুরুষের (৩০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ১১ অক্টোবর বিকেলে ওই ভবনের একই তলা থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর (৩০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর একই তলা থেকে আগুনে পোড়া অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা পুরুষের (৩৫) এবং সর্বশেষ গত রোববার একই তলা থেকে অজ্ঞাতনামা পুরুষ (২৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক মেয়ে শিশুর (১৩) আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ