যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় ইউক্রেন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা দিনকে দিন ভিন্ন মাত্রার রূপ নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত পদক্ষেপে একদিকে সংকট বাড়ছে, অন্যদিকে সমাধানের পথও রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে ইউক্রেন সংকট সমাধানের পথ আটকে দিতে পারে।

আজ রোববার আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে শনিবার শঙ্কা প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। গতকাল শনিবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জেলেনস্কির উদ্বেগের কথা উঠে আসে।

এর আগে আবুধাবিতে রাশিয়া‑ইউক্রেন শান্তিচুক্তি উপলক্ষে প্রথম বৈঠকটি গত ২৩-২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বৈঠক থেকেই রোববার বৈঠকের দিন-তারিখ ঠিক করা হয়। জেলেনস্কির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যারা বৈঠকে অংশ নেবেন, তারা ট্রাম্পের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছেন। ইরানে হামলার মতো কিছু ঘটে গেলে, বৈঠকটি হবে না।

মস্কো থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এখন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত আছেন। এই আলোচনা আবুধাবির বৈঠকে অগ্রগতি নিয়ে আসতে পারে।

ইউক্রেন সংকটের ব্যাপারে রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি এখন কিছুটা শান্ত। রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা আগের চেয়ে অনেকটাই কমে এসেছে। কারণ, ইউক্রেনে এখন প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকায় ট্রাম্প রাশিয়াকে হামলা না করতে অনুরোধ করায় রাশিয়া ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনে তাপমাত্রা মাইনাস ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জেলেনস্কি জানান, শুক্রবার পর্যন্ত উভয় পক্ষই নতুন কোনো আক্রমণ করেনি। মস্কো হামলা না করলে ইউক্রেনও থেমে থাকবে। যদিও এ নিয়ে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

ইউক্রেনে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট
ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিগাল জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে ব্যাপক বিভ্রাট দেখা দেয়। কারিগরি ত্রুটি ও রাশিয়ার হামলায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিকল হয়ে গেছে মলদোভা, রোমানিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে বৈদ্যুতিক লাইন। টেলিগ্রামে মন্ত্রী জানান, এই ত্রুটির কারণে রোমানিয়া এবং মলদোভার পাওয়ার গ্রিডের মধ্যে ৪০০ কিলোভোল্ট লাইন এবং পশ্চিম ও মধ্য ইউক্রেনের মধ্যে ৭৫০ কিলোভোল্ট লাইন একযোগে বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিদিন প্রায় আট লাখ গ্রাহক এই সিস্টেমটি ব্যবহার করেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মেট্রোতে ট্রেন পরিষেবা এবং এসকেলেটর পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের জ্বালানি গ্রিডে রাশিয়ার আঘাতের ফলে পুরো জেলায় তাপ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

কৃষ্ণসাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাইন অপসারণ
কৃষ্ণসাগরের তলদেশে ছড়িয়ে আছে হাজার হাজার রাশিয়ার সমুদ্র মাইন। সঙ্গে আছে মিসাইল, আর্টিলারি শেল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা। ইউক্রেনের নিরাপত্তার ব্যাপারে এটি কঠিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঝুঁকির মধ্যেই দেশটির বন্দরগুলোকে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য রাখতে হচ্ছে। অর্থ উপার্জনের জন্য এটি অপরিহার্য।

ইউক্রেন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অত্যন্ত ধীরে এবং সতর্কভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। যাতে মাইন বিস্ফোরিত না হয়। এক সেকেন্ড নড়াচড়া করলে কিছুক্ষণ স্থির থাকতে হয়। ধাপে ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শনাক্ত হওয়া মাইনটির কাছে যেতে হয়।

কমান্ডার ফক্স ব্যাখ্যা করেন, মাইন সাধারণত দুই ধরনের। একটি হলো কন্ট্যাক্ট মাইন, এটি সংঘর্ষ হলে বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি ইনফ্লুয়েন্স মাইন। এই মাইনগুলো শব্দ, চাপ বা চুম্বকত্বের পরিবর্তনেও বিস্ফোরিত হতে পারে।

২০২৫ সালে ৫০টির বেশি মাইন নিষ্ক্রিয় করা হয়। এই সংখ্যা সাগরে থাকা মোট মাইনের ছোট অংশ মাত্র। স্রোতের তোড়ে মাইনগুলো এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে পারে। এ জন্যই শঙ্কা বেশি।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ