নন্দিত নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত। সংস্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এ বছর দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দিত হয়ে চলেছেন তিনি। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি অনেকে মন্তব্য করেছেন– দেরিতে হলেও এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের পুরস্কারটি ছিল তাঁর যোগ্য মূল্যায়ন ও প্রাপ্য স্বীকৃতি। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব–
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক পেলেন। কেমন লাগছে?
পুরস্কার পেলে ভালো লাগারই কথা। তার ওপর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার। এই পুরস্কার প্রাপ্তির আনন্দই আলাদা। সবচেয়ে বড় কথা আমার এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাস-ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত-আবেগাপ্লুত।
এই অর্জন কাকে উৎসর্গ করতে চান?
এটি আমার একার অর্জন নয়। যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে, এই অর্জন তাদের সবার। আজকের এই আনন্দের দিনে আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরস্কার আমি আমার সব দর্শকের উদ্দেশে উৎসর্গ করলাম।
এই পদক প্রাপ্তিতে দায়িত্ববোধ কতটা বাড়িয়ে দেবে?
আমি কোনো পুরস্কার পাবার জন্য অনুষ্ঠান করি না। আমি সবসময়ই বলেছি, দর্শকদের ভালোবাসাই আমার বড় পুরস্কার। সেই জন্য সবসময় দর্শকদের সময়ের মূল্য দিয়েছি। শিকড়ের সন্ধানে চষে বেড়িয়েছি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি বলেই ইত্যাদির বয়স এখন ৩৮ বছর। ভবিষ্যতেও এভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করব। এই পুরস্কার আমাকে ভবিষ্যৎ চলার পথে প্রেরণা জোগাবে, উৎসাহ বাড়াবে।
লেখক, উপস্থাপক, অভিনেতা, নির্মাতা, প্রযোজক– এতগুলো পরিচয় বহন করা এবং প্রতিটি পরিচয়ে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
এসব নিয়ে কখনও ভাবিনি। ভাবার প্রয়োজনও বোধ করিনি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমি আমার কাজগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে ভালোভাবে করতে চেষ্টা করেছি।
মরণোত্তর পদক না দিয়ে জীবদ্দশাতেই সবাইকে সম্মান জানানো উচিত– অনেকের এ মতকে সমর্থন করেন?
অবশ্যই, সমর্থন করি। নিজের স্বীকৃতি দেখে যাওয়া আনন্দের। এতে অন্যরকম প্রশান্তি কাজ করে।
খ্যাতির বিড়ম্বনা এড়িয়ে সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরার সুযোগ পাওয়ার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষদের দেখে কি কখনও ঈর্ষা হয়?
নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করি এবং সবসময় সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করি। এভাবেই আগামীর পথ পাড়ি দিতে চাই।
বিনোদনমূলক আয়োজনেও শিক্ষা, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যসহ নানা বিষয় তুলে ধরছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা কিংবা বিবেকবোধ থেকে নিজস্ব সৃষ্টির এমন উপস্থাপন?
আমি মনে করি, সুস্থ সংস্কৃতিই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে। তাই সারাজীবন দেশীয় সংস্কৃতিচর্চা ও বিকাশে কাজ করেছি, এখনও করছি। আমৃত্যু করে যেতে চাই।
রাষ্ট্র বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে পদক দেওয়ার মধ্য দিয়ে সম্মানিত করে থাকে, যা নিয়ে বিতর্কও হয়। কে সম্মাননা পাওয়ার যোগ্য, কে অযোগ্য– তা নিয়ে আলোচনায় মুখর হন অনেকে। তাদের এই মানসিকতাকে কীভাবে দেখেন?
যোগ্যরা সম্মান পাবে– এটি স্বাভাবিক। অযোগ্য লোককে পদক ও সম্মাননা দিলে সমালোচনাতো হবেই।
এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসা যাক। প্রতি ঈদেই জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি নিয়ে হাজির হন। এবারের ইত্যাদি সাজিয়েছেন কীভাবে?
ইত্যাদি ঈদের আনন্দের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রতিবারই চেষ্টা করি দর্শকদের প্রতীক্ষিত এই অনুষ্ঠানটিতে সমাজ সংস্কার ও ক্ষত নিরাময়ের নানান বার্তা ও রুচিশীল বিনোদনের মাধ্যমে দর্শক হৃদয় জয় করতে। তাই অনুষ্ঠানে থাকবে নাচ-গান-অভিনয়ে সমৃদ্ধ বর্ণাঢ্য আয়োজন। আর মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সবশেষে থাকবে দেশের গান। প্রতিবারের মতো এবারও দেশের শীর্ষ তারকারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। আশা করি, বরাবরের মতো এবারও সপরিবারে সবাই মিলে আনন্দচিত্তে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে পারবেন।
ঈদ আয়োজনে নাটকও তো থাকছে? প্রতিবার আপনার নাটকের নাম হয় ছন্দময় এবং নাটকে থাকে মাটি, মানুষ ও দেশের কথা। এবারও কী তাই?
হ্যাঁ, এবারের নাটকের নামও ছন্দময় ‘ভালোবেসে অবশেষে’। এতে বিনোদনের পাশাপাশি থাকবে সামাজিক বার্তা ও দেশের কথা। প্রতি বছরের মতো এবারও নাটকটি এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে।




