প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদ, স্থানীয় নির্বাচন চায় জামায়াত

ছয় সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদ করে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার বিবৃতিতে বলেছেন, দলীয় পদধারীদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার পরিপন্থি। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং পাতানো নির্বাচনের প্রথম ধাপ।

সোমবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, খুলনা, রাজশাজী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মেয়রের দায়িত্ব দিয়ে ছয় দলীয় নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার। এর প্রতিবাদ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, নবগঠিত বিএনপি সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরুতেই জনআকাঙ্খার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে চব্বিশের আগস্টে সিটি করাপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। পৃথক অধ্যাদেশগুলোতে সরকারকে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই ক্ষমতা বলে ইউনূস সরকার ঢাকা উত্তর সিটিতে মোহাম্মদ এজাজকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। অন্যান্য করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়।

জামায়াত, এনসিপি তখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দাবি করছে। বিএনপি সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছিল। গত আগস্টে আরও চারটি পৃথক অধ্যাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বন্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের নির্দেশনা সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করবে। জুলাই সনদে এই ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই তাতে একমত হয়।

নতুন সরকার কবে নাগাদ নির্বাচন দেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। নির্বাচন দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্খা ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়া, গণহত্যার বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার। এর অংশ হিসেবে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জনগণের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।

কিন্তু তারেক রহমানের সরকার জন-আকাঙ্খার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সিটি করপোরেশনে সরকার দলের নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ, নৈতিকভাবে গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। জনমনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে, সরকারের এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। একই সঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ