গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ ও স্থায়ী প্রবেশাধিকার দাবি ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যাটোর একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার ফলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পূর্ণ ও স্থায়ী প্রবেশাধিকার’ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি ঘিরে ন্যাটো জোট, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ডেনমার্ক-গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ রয়েই গেছে। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ন্যাটো।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে একটি নতুন কাঠামোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আগের যে কোনো চুক্তির তুলনায় ‘অনেক বেশি উদার’। তিনি বলেন, এই প্রবেশাধিকারের কোনো সময়সীমা নেই। এর আগে ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে কার্যত ‘সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ পাবে।
তবে ন্যাটো ও ডেনমার্কের পক্ষ থেকে এ দাবির ব্যাখ্যা কিছুটা ভিন্ন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা বিবেচনায় নিয়ে জোটের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ন্যাটোর সামরিক কমান্ডারদের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখনও ‘জটিল ও সংবেদনশীল’, তবে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদারের প্রশ্নে অগ্রগতি হয়েছে। একই সুর শোনা গেছে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নেলসেনের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ও আলোচনা সম্ভব; কিন্তু সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা গ্রিনল্যান্ডের জন্য ‘রেড লাইন’।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের আগ্রাসী বক্তব্যের জেরে চাপের মুখে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। যদিও ট্রাম্প ইউরোপের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করায় সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরলেও কূটনৈতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ কাটেনি। এদিকে ডেনমার্কে সামরিক প্রস্তুতির খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ডেনিশ সেনাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি হালনাগাদ করার কথাও উঠেছে। ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও চলাচলের অধিকার পেয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ দাবি মূলত আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদারের রাজনৈতিক বার্তা। চীন এ বিষয়ে নিজেদের হুমকি হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর এএফপি, রয়টার্সের।

 

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ