রেকর্ড পরিমাণে কমেছে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ সরবরাহ কমেছে জেট ফুয়েলের, যা বিমানের জ্বালানি তেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে সাপ্তাহিক এই জ্বালানি পরিবহনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ লাখ টন, গত সপ্তাহে তা অর্ধেকেরও নিচে নেমে মাত্র ২৩ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

বার্তা সংস্থা গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে শিপিং ডাটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে জেট ফুয়েল সরবরাহের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এখন মজুত থাকা জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

সংস্থাটি আরো বলছে, সংকটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চীন; দেশটি হংকং বাদে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সুইডেনের জ্বালানি মন্ত্রী ইবা বুশ আগেভাগেই সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, বিশ্ব খুব শীঘ্রই বড় ধরনের জ্বালানি ঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিমান সংস্থাগুলোর ওপর। জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় অনেক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।

জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা ইতিমধ্যেই তাদের গ্রীষ্মকালীন সূচি থেকে ২০ হাজার স্বল্পপাল্লার ফ্লাইট বাতিল করেছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উইলি ওয়ালশ জানিয়েছেন, এই সংকট প্রথমে এশিয়ায় তীব্র হবে এবং পর্যায়ক্রমে ইউরোপ, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেশ কিছু ইউরোপীয় বিমান সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ