আমরা না থাকলে হয়ত ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন: ট্রাম্পকে ব্রিটিশ রাজার খোঁচা

ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে গত জানুয়ারিতে দাভোস সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রসিকতার জবাব তিন মাস পর দিলেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস।

যুক্তরাষ্ট্র সফররত ব্রিটিশ রাজার সম্মানে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে চার্লস তার বক্তব্যে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ব্রিটিশরা না থাকলে আমেরিকানরা হয়ত এখন ফরাসি ভাষায় কথা বলত।

গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প এক সফরে ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সহায়তা না পেলে তারা এখন হয়ত জার্মান ভাষায় কথা বলতেন। সে দিকে ইংগিত করেই চার্লস ট্রাম্পের সঙ্গে পাল্টা রসিকতা করলেন।

সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর লিখেছে, নৈশভোজে টোস্ট (গ্লাসে-গ্লাসে ঠোকাঠুকি) বিনিময়ের সময় রাজা চার্লস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গত জানুয়ারির মন্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকার ওপর নির্ভর করে বিনা পয়সায় প্রতিরক্ষা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।

রাজা চার্লস কৌতুক করে বলেন, “মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন জার্মান ভাষায় কথা বলত। আমি কি বলতে পারি যে, আমরা না থাকলে আপনারা হয়তো ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন?”

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজা চার্লস মূলত উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ এবং ফরাসি ঔপনিবেশিক ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করেন। কারণ আড়াইশ বছর বছর আগে মার্কিন স্বাধীনতার পূর্বে মহাদেশটির নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ঔপনিবেশিক শক্তি যুদ্ধে লিপ্ত ছিল।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর লিখেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কিছুটা ‘উত্তেজনা’ থাকলেও রাজার এই রসিকতা দুই দেশের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ উষ্ণতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।

ট্রাম্পের ‘আবাসন ব্যবসায়ী’ পরিচয়ের দিকে ইঙ্গিত করে হোয়াইট হাউজের ইস্ট উইংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংস্কার কাজ নিয়েও ঠাট্টা করেন ব্রিটিশ রাজা।

রিয়েল এস্টেট টাইকুন ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওই অংশ ভেঙে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল বলরুম তৈরি করেছেন।

রাজা হাসতে হাসতে বলেন, “দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমরা ব্রিটিশরাও ১৮১৪ সালে একবার এই হোয়াইট হাউজের রিয়েল এস্টেট সংস্কারের নিজস্ব একটি প্রচেষ্টা চালিয়েছিলাম।”

রাজা চার্লস মূলত ১৮১৪ সালের যুদ্ধের কথা বুঝিয়েছেন, যখন ব্রিটিশ সৈন্যরা হোয়াইট হাউজে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল।

ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজকে ১৭৭৩ সালের ‘বস্টন টি পার্টির’ চেয়ে ‘বড় রকমের অগ্রগতি’ বলেও টিপ্পনি কাটেন রাজা চার্লস।

১৭৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমেরিকার বস্টন বন্দরে করযুক্ত ব্রিটিশ চা বোঝাই জাহাজ থেকে ৩৪০টির বেশি চায়ের বাক্স সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা ইতিহাসে ‘বস্টন টি পার্টি’ নামে পরিচিত। ওই ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার এবং আমেরিকান উপনিবেশবাদীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে।

স্কটিশ মায়ের সন্তান ট্রাম্প ব্রিটিশ রাজপরিবারের বড় ‘ভক্ত’। রাজার রসিকতার জবাবে তিনি বলেন, “কংগ্রেসে চমৎকার ভাষণের জন্য আমি চার্লসকে অভিনন্দন জানাতে চাই। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সিট থেকে উঠে দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন, যা আমি কখনোই করতে পারিনি।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সাহায্য’ করতে অস্বীকার করায় ট্রাম্প যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন, তা প্রশমিত করতে রাজা এই সফরে তার জন্য একটি উপহারও নিয়ে আসেন। তিনি ট্রাম্পকে ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নামানো ব্রিটিশ সাবমেরিন ‘এইচএমএস ট্রাম্প’ এর একটি ঘণ্টা উপহার দেন।

উপহার দেওয়ার সময়ও ট্রাম্পের সঙ্গে রসিকতা করেন চার্লস। তিনি বলেন, “এটা যেন আমাদের দুই জাতির ইতিহাস এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সাক্ষী হয়ে থাকে। আমাদের সঙ্গে কখনো যোগাযোগের প্রয়োজন হলে শুধু এই ঘণ্টাটি বাজাবেন।”

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
WhatsApp
LinkedIn
Print

এ বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

বিভাগীয় সংবাদ