মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সমস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করবেন। এ ছাড়া, যারা এখনো নাগরিকত্ব পায়নি তাদের জন্য ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ করা হবে।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কথা লিখেন। তবে তিনি কোন প্রক্রিয়ায় অভিবাসন স্থগিতাদেশ কার্যকর করবেন, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর প্রশাসনের জারি করা আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো আদালত ও কংগ্রেস- উভয় ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের পাশে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। এরপরই অভিবাসন স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিএনবিসি নিউজ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর পোস্টে কোনগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে গণ্য হবে তা স্পষ্ট করেননি। ‘তৃতীয় বিশ্ব’ শব্দটি মোটামুটি এমন দেশগুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেগুলোর দারিদ্র্যের হার বেশি। অর্থনৈতিকভাবেও অস্থিতিশীলতার মধ্যে আছে।
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ওয়েবসাইটে মানব উন্নয়ন সূচকে কম রেটিংয়ের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে আছে দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ ও নাইজার। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২৫ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।
হোয়াইট হাউসের পাশে গুলির ঘটনায় এক আফগান নাগরিক আটক হয়েছেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২১ সালে বিশেষ সুবিধায় দেশটিতে পাড়ি জমানো আফগান নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়ার কাজ এরই মধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যারা দেশটির জন্য কল্যাণকর নয় তাদের বের করে দেওয়া হবে।
১৯ দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের ইস্যু করা গ্রিন কার্ডগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করবে। নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার প্রধান জোসেফ এডলো বলেছেন, উদ্বেগজনক দেশ থেকে আসা বিদেশির গ্রিন কার্ড কঠোরভাবে পর্যালোচনা করতে প্রেসিডেন্ট তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন।
কোন কোন দেশ সেই তালিকায় আছে- এমনটা জানতে চাইলে অভিবাসন পরিষেবা থেকে হোয়াইট হাউসের গত জুন মাসের এক ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করা হয়। ওই ঘোষণায় আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম ছিল।